দক্ষিণ সিরিয়া ছাড়লেই ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক’-বললেন প্রেসিডেন্ট আল-শারা


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ / ০ Views
দক্ষিণ সিরিয়া ছাড়লেই ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক’-বললেন প্রেসিডেন্ট আল-শারা

সিরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগে দক্ষিণ সিরিয়ায় দখল করা এলাকা থেকে ইসরায়েলকে সরে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। একই সঙ্গে গোলান মালভূমির মালিকানা নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক আলোচনায় এসব কথা বলেন সিরীয় প্রেসিডেন্ট।

আল-শারা বলেন, গত প্রায় এক বছর ধরে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চলছে। তার দাবি, নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনায় দুই দেশ একপর্যায়ে প্রায় ৯০ শতাংশ সমঝোতায় পৌঁছেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ইসরায়েল বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেই সমঝোতা থেকে সরে যায়। এরপরও কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দামেস্ক।

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আল-শারা বলেন, প্রথমে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর দখল করা এলাকা থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। এরপর দুই পক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। সেই ব্যবস্থা কার্যকর হলে পরবর্তী ধাপে স্থায়ী শান্তির বিষয়ে আলোচনা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

গোলান মালভূমি প্রসঙ্গে আল-শারা আরও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী গোলান সিরিয়ার ভূখণ্ড। ফলে এ ভূখণ্ড কার—তা নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতির প্রসঙ্গও আলোচনায় এলে আল-শারা সেই অবস্থানের বিরোধিতা করেন।

আল-শারা জানান, সিরিয়া ইসরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ যাচাইয়ের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে। তার মতে, ইসরায়েলের প্রকৃত নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং কেবল আশঙ্কা—দুটিকে আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে পারস্পরিক আস্থা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।আইনি পরামর্শ নিন

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলি জনগণের নিরাপত্তা-উদ্বেগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, ওই হামলায় নিরীহ মানুষের সঙ্গে যা ঘটেছে, তিনি তা বোঝেন। তবে একটি ঘটনার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সব নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গাজা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আল-শারা বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনা যেমন বিবেচনায় নিতে হবে, তেমনি গাজায় পরবর্তী সময়ে কী ঘটেছে, সেটিও দেখতে হবে। তার দাবি, সেখানে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিরিয়ার প্রতি ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণ করা উপযুক্ত নয়।

ইসরায়েলের নীতি পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে আল-শারা বলেন, বর্তমান নীতির কারণে দেশটি তার চারপাশে নতুন সমস্যা তৈরি করছে। তার ভাষ্য, ইসরায়েল যদি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তাকেও সম্মান করতে হবে। তিনি বলেন, ‘সমস্যাটি ইসরায়েলের সঙ্গে, সিরিয়ার সঙ্গে নয়।’

আল-শারার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়া নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে এবং দামেস্ক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের আলোচনায় সিরিয়ার পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং আঞ্চলিক পুনঃসম্পৃক্ততার পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।