নয়াদিল্লিতে বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক শেষ কিন্ত হলো না কোন সংবাদ সম্মেলন


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুন ১২, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ /
নয়াদিল্লিতে বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক শেষ কিন্ত হলো না কোন সংবাদ সম্মেলন

নয়াদিল্লিতে বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক শেষ কিন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৈঠক শেষে দুই বাহিনীর প্রধানদের কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সীমান্ত বৈঠকের ইতিহাসে এটিকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের চার দিনের বৈঠক বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, সীমান্তে সহিংসতা, বেড়া নির্মাণ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৈঠক শেষে দুই বাহিনীর প্রধানদের কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সীমান্ত বৈঠকের ইতিহাসে এটিকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত সোমবার বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি পৌঁছে বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে প্রাথমিক আলোচনা করেন। পরে মঙ্গলবার দিল্লির লোদি রোডে বিএসএফ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ভারত-বাংলাদেশের ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষ বৈঠক।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের ওপর বাংলাদেশী নাগরিকদের হামলা এবং সীমান্তের বেড়া ভাঙার মতো ঘটনাগুলোও আলোচনায় এসেছে।

বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিরা যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষর করলেও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেননি। পরিবর্তে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের আমলে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজ্য সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

বৈঠকের আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিএসএফের কথিত ‘পুশ-ইন’ এবং সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনাগুলো বাংলাদেশ পক্ষ আলোচনায় উত্থাপন করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বছরে একবার অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুইবার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সর্বশেষ বৈঠকটি ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।