পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফা নির্বাচনে রেকর্ড ভোট, ভোট পড়েছে প্রায় ৯১.৫২ শতাংশ!


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ /
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফা নির্বাচনে রেকর্ড ভোট, ভোট পড়েছে প্রায় ৯১.৫২ শতাংশ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় মোটামুটি নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে। এবার ভোটদানের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট। আলোচনায় উঠে এসেছে, এটা কি পরিবর্তনের ভোট নাকি এসআইআর (ভোটার সংশোধন তালিকা) পরবর্তী ভীতির ভোট? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।

পশ্চিমবঙ্গে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৯১.৫২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদে প্রায় ৯১.৩৬ শতাংশ। যে ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোট হয়েছে, সেগুলোতে ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৩.২ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৭৯.৮ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে এর আগ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছিল ২০১১ সালে। ওই বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ। আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটে এর কাছাকাছি হার বজায় থাকলেই পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে দেবে ভোটদানের যাবতীয় সর্বভারতীয় নজির।

দক্ষিণবঙ্গে প্রচণ্ড গরম সত্ত্বেও ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গেও ভোটারদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ দেখা গেছে। ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারে এসে দাবি করেছেন, তিনি তার ৫০ বছরের জীবনে এমন শান্তিপূর্ণ ভোট পশ্চিমবঙ্গে দেখেন নি। এ জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট নির্বিঘ্নে হওয়ায় খুশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। জ্ঞানেশ কুমার বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে। কোচবিহারে ৯টি, আলিপুরদুয়ারে ৫টি, জলপাইগুড়ির ৭টি, কালিম্পঙের ১টি, দার্জিলিংয়ের ৫টি, উত্তর দিনাজপুরের ৯টি, দক্ষিণ দিনাজপুরের ৬টি, মালদহের ১২টি, মুর্শিদাবাদের ২২টি, পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি, ঝাড়গ্রামের ৪টি, পুরুলিয়ার ৯টি, বাঁকুড়ার ১২টি, পশ্চিম বর্ধমানের ৯টি এবং বীরভূমের ১১টি আসনে ভোট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কিছু ক্ষেত্রে ইভিএমের ত্রুটিতে ভোট দেরিতে শুরু হওয়া ছাড়া তেমন কোনো অসঙ্গতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লাঠিচার্জেরও অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও আক্রান্ত হয়েছে। কোথাও এজেন্টের মাথা ফেটেছে, কোথাও প্রার্থীকে মারধরের ঘটনা ও গাড়িতে হামলা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় কোথাও বড় কোনো গোলমাল বা সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। তবে তীব্র গরমে অন্তত চারজন ভোটারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে সারা দিনে হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। কমিশনও বিভিন্ন গোলমালের জায়গা থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে।

গতকাল কলকাতার চৌরঙ্গীর সভা থেকে প্রথম দফার ভোটদানের হার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষ জানেন এটা তাদের অধিকার রক্ষার লড়াই। তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না-দিলে আমও যাবে, ছালাও যাবে। তার অধিকার, সম্পত্তি, ঠিকানা, ব্যবসা যাবে। বিজেপি’র অত্যাচারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। মমতা বলেন, মানুষ জানে এরপরে এনআরসি করার পরিকল্পনা করবে।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমাকে যা করেছিল একুশ সালের ভোটে, তার বদলা সুদে-আসলে তুলে নিয়েছি। হিন্দুরা এবং নারীরা একজোট হয়ে ভোট দিচ্ছেন। আমি কখনো দেখিনি বেলা ১২টার মধ্যে ৬০ শতাংশ ভোট পড়ে যেতে। ব্যাঙ্গালুরু, কর্ণাটক থেকে মানুষ এসে ভোট দিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় শুভেন্দু বলেন, এবার পরিবর্তন আসবে। এবার বাংলায় যদি কোনো পরিবর্তন না আসে তবে রাজ্য থেকে সনাতন শেষ হয়ে যাবে।