বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন হয়রানি সক্রান্ত উপাদান, মেটাকে তলব করলো ভারত সরকার


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ৩, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ /
বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন হয়রানি সক্রান্ত উপাদান, মেটাকে তলব  করলো ভারত সরকার

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদানসমৃদ্ধ বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। এ ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে তলব করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

সরকার জানতে চায়, কীভাবে এ ধরনের বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে প্রচারের অনুমতি পেল এবং এমন উপাদান বন্ধে মেটা কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান প্রচারকারী বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেখানে অত্যন্ত আপত্তিকর শিরোনামযুক্ত কয়েকটি বিজ্ঞাপন দেখা গেছে, যেখানে ‘ধর্ষণ ভিডিও’ ও ‘শিশু ভিডিও’–এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, এসব বিজ্ঞাপনের সংযোগ ছিল বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলের সঙ্গে। সেখানে মাত্র ৯৯ রুপিতে এ ধরনের উপাদান কেনার সুযোগ ছিল।

বিবিসি বিষয়টি জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর ইনস্টাগ্রাম দাবি করে, সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলো তাদের সম্প্রদায়গত নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি। তবে পরে মেটা বিবিসিকে জানায়, এ ধরনের বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন তারা নিষ্ক্রিয় করেছে, সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো স্থগিত করেছে এবং নীতিমালা লঙ্ঘনকারী ইন্টারনেট ঠিকানাগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে।

ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপেরও মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। চলতি সপ্তাহের শুরুতে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন নম্বরের পরিবর্তে ব্যবহারকারীর নাম ব্যবহারের সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে তিন দিনের মধ্যে এ সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতেও বলা হয়।

সরকারের নোটিশে বলা হয়, এ সুবিধা চালু হলে প্রতারক চক্র সহজেই সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে বার্তা পাঠাতে সক্ষম হতে পারে। এর ফলে অনলাইন জালিয়াতি, তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রতারণা, ডিজিটাল গ্রেফতারের নামে প্রতারণা এবং পরিচয় চুরির মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, এই সুবিধা ব্যবহার করে প্রকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়া ব্যবহারকারীর নাম তৈরি করা সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষ, সরকারি কর্তৃপক্ষ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার পরিচয় ভুয়া পরিচয়ে ব্যবহার করে প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। মেটার পাশাপাশি একই ধরনের নোটিশ পাঠানো হয়েছে টেলিগ্রাম ও সিগন্যাল অ্যাপকেও।