

মোঃ ওমর সিয়াম স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল চেকপোস্ট সোনালী ব্যাংক বুথে ভ্রমণকর রসিদ বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতগামী পাসপোর্ট যাত্রীরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
বুধবার সকাল থেকেই এই দৃশ্য চোখে পড়ে। এই চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারত বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকেন। এর মধ্যে বর্তমানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রায় আড়াই হাজার যাত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট সোনালী ব্যাংক বুথ থেকে ভ্রমণকর সংগ্রহ করে থাকেন।
সারাদেশে অনলাইনে ভ্রমণকর পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা হলেও বেনাপোল চেকপোস্ট বুথে ভ্রমনকরের রশিদ ও আগের সরাসরি অনলাইন পদ্ধতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ‘এ’ চালান পদ্ধতি ছাড়া কোন ভ্রমনকর জমা নেওয়া হবে না। অন্য কোন মাধ্যমে ভ্রমণকর পরিশোধ করলে তা গ্রহনযোগ্য হবে না।
দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের এখানে সেবার প্রয়োজনীয় উপকরণ নেই। এ চালান পদ্ধতিতে একজন পাসপোর্টধারী যাত্রীর ভ্রমনকর সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগছে। এ কারনে ব্যাংকে ভ্রমণকর কাটতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে নারী, শিশু ও রোগীরা।
ভারত ভ্রমণে যাওয়া সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাসূক হৃদয় নামে এক পাসপোর্ট যাত্রী বলেন, তিনি সকাল ৮টায় বেনাপোল চেকপোস্টে এসেছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে ভ্রমণকর সংগ্রহ করতে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। ব্যাংকের বুথে ভ্রমণকর রসিদের মাধ্যমে না নেওয়ায় এ চালান পদ্ধতিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভ্রমণকর পরিশোধ করতে প্রতিজন যাত্রীর প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগছে। এজন্য যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা সময় লাগছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট সোনালী ব্যাংক বুথের অফিসার ক্যাশ শরিফুল ইসলাম ও হাসানুজ্জামান জানান, আমরা অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করছি। উনারা যেভাবে বলেন সেই আদেশ আমাদের মেনে চলতে হয়। ব্যাংকে এখনও পর্যাপ্ত ভ্রমনকরের রশিদ বই রয়েছে। যা দিয়ে ৩ লক্ষ পাসপোর্টের চালান কাটা সম্ভব। তারপরও অফিসারদের নির্দেশ এ চালান পদ্ধতিতে অনলাইনে ভ্রমণকর পরিশোধ করতে হবে। যেখানে এ মাধ্যমে একজন যাত্রীর ভ্রমণকর কাটতে ১০ মিনিটের মতো সময় লাগছে। এজন্য যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক এ জিএম জহির রায়হান জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ চালানের মাধ্যমে অনলাইনে ভ্রমণকর সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যদিও যাত্রীরা এ চালানে অনলাইনে ভ্রমণকর পরিশোধ করার প্রতি আগ্রহী না। কারন এ পদ্ধতিতে একজন যাত্রীর ভ্রমনকর পরিশোধ করতে কম পক্ষে ৫-৭ মিনিট সময় লাগছে। সে কারনে যাত্রীদের লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
রসিদ বইয়ের মাধ্যমে একজন যাত্রীর ভ্রমনকর পরিশোধ করতে মাত্র ১৫-২০ সেকেন্ড সময় লাগে। ভ্রমণকরটা আমরা সংগ্রহ করে শুধুমাত্র কাস্টমসের অনুকূলে জমা দিয়ে দেই। এটা সম্পূর্ণ কাস্টমসের এখতিয়ার। যাত্রীদের দূর্ভোগের বিষয়টা কাস্টমস কর্তৃপক্ষে জানানো হয়েছে। রশিদ বই পর্যাপ্ত মজুদ আছে। যদি পুনরায় রশিদ বইয়ের মাধ্যমে ভ্রমণকর নেওয়ার নির্দেশ দেন তাহলে আবার ওই নিয়ম চালু করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :