মামলা জট কমাতে ‘মেডিয়েশন’ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানালেন আইনমন্ত্রী


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মে ২, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ /
মামলা জট কমাতে ‘মেডিয়েশন’ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানালেন আইনমন্ত্রী

দেশের আদালতগুলোতে মামলার জট কমাতে সরকার আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে মধ্যস্থতা (মেডিয়েশন) কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের ফলে নতুন মামলা দায়েরের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রক্রিয়াগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক সক্রিয়তা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মামলা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা রোধে বিচারকদের আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শও দেন।

আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে দেশের সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আবেগের ভিত্তিতে নয়, বরং গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারকদের আইনসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষা প্রদান করবে।

বিচার ব্যবস্থায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বিষয় তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ছোট ছোট প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণেই অনেক সময় বিচারকরা দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন করতে পারেন না। এসব সমস্যা দূর করতে বিচারকদের ক্ষমতায়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কার জরুরি।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে ৪০ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় প্রায় ৩ লাখ মামলা রয়েছে। সীমিতসংখ্যক বিচারকের কারণে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইনমন্ত্রী। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে সেমিনারে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুম। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগের কর্মকর্তা, আইনজীবী, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।