

ইরান ও বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান অস্থির সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ।
ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এই হামলাকে তাঁরা ‘অবৈধ’ এবং ‘অপরাধমূলক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
রজভী স্কুল অফ আর্ট মেগা প্রজেক্ট’-এর পরিচালক মোহাম্মদ জাভাদ ওস্তাদির এক চিঠির জবাবে মার্কিন ও ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিন প্রখ্যাত পণ্ডিত নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
এই উদ্যোগটি মূলত আন্তর্জাতিক চিন্তাবিদদের কাছে চলমান সংকটের আইনি, রাজনৈতিক এবং মানবিক দিকগুলো ব্যাখ্যা করার অনুরোধ জানিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের সোয়াস (SOAS) এর গ্লোবাল থট অ্যান্ড কম্পারেটিভ ফিলোসফির অধ্যাপক আরশিন আদিব-মোগাদ্দাম তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, ক্ষমতার মুখে সত্য বলা বুদ্ধিজীবীদের দায়িত্ব।
তিনি সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে ইরানি জনগণের প্রতিরোধের প্রশংসা করেন।
ভারতের প্রখ্যাত ঐতিহাসিক এবং ট্রাইকন্টিনেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিজয় প্রসাদ এই হামলার কৌশলগত দিকগুলো নিয়ে কথা বলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্পষ্ট সামরিক উদ্দেশ্য বিশ্ব রাজনীতিতে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাঁর মতে, ইরানের এই প্রতিরোধ বিশ্ব শক্তির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তেহরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক আরলি রাসেল হোচশিল্ড আইনি দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো অনুমোদন ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
তিনি আরও জানান, আমেরিকার সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ ইরানের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা পোষণ করছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই সংকটের মাঝে বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের এই সমর্থন ইরানের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :