যশোরে বিজিবির পোশাক, অস্ত্র, হ্যান্ডক্যাপ ও ওয়াকিটকিসহ গ্রেফতার হওয়া সেই ডাকাতের জামিন! সচেতন মহলের ধিক্কার!


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ৯, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ /
যশোরে বিজিবির পোশাক, অস্ত্র, হ্যান্ডক্যাপ ও ওয়াকিটকিসহ গ্রেফতার হওয়া সেই ডাকাতের জামিন! সচেতন মহলের ধিক্কার!

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে বিজিবির সরকারি পোশাক, ওয়াকিটকি, হাতকড়া ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পরের দিন আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরেছেন মামলার প্রধান আসামি উজ্জল হোসেন।

পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে স্থানীয়দের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, গত ১ আগস্ট রাতে যশোর শহরে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিনজন আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। কিন্তু হ্রেফতারের মাত্র এক দিনের মাথায় প্রধান আসামির জামিনে মুক্তি এবং এলাকায় ফিরে কথিত হুমকিমূলক আচরণ সেই স্বস্তিকে আবারও আতঙ্কে পরিণত করেছে।

এদিকে গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি। তব৷ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়েছিল, তাদের নিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ আর মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উজ্জল হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপরাধের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

গত বছর গোগা ইউনিয়নের হরিশচন্দ্রপুর গ্রামের মাহাবুর ডাক্তারকে লক্ষ্য করে গুলি করতে গিয়ে তাকে না পেয়ে বাড়ির দেয়ালে গুলি করার ঘটনাতেও তাদের নাম আসে বলে দাবি এলাকাবাসীর। কয়েক মাস আগে গোগা বাজারে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ডিবি পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামতের ধরন এবং মামলার অভিযোগ বিবেচনায় দ্রুত জামিন পাওয়ার ঘটনায় তারা বিস্মিত। তাদের মতে, এমন ঘটনায় অপরাধীদের মধ্যে আইনের প্রতি ভয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়ে।

শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, তাদের আটকের বিষয়টি শুনেছি। পরে জামিনে মুক্ত হওয়ার খবরও জেনেছি। তবে তারা এলাকায় ডাকাতি করে না, বাইরের এলাকায় করে বলে শুনেছি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, গোগা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুল হামিদ আসামিদের জামিনের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে তদবির করেছেন। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন দিলে যোগাযোগ করা সম্ভব যায়নি।

ডিবি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট রাত ১১টা ১০ মিনিটে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ষষ্ঠীতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। বাড়ির মালিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে মো. উজ্জল হোসেন, মো. আনারুল ইসলাম ও মো. তোফাজ্জেল হোসেনকে আটক করা হয়। তারা প্রথমে নিজেদের বিজিবির সদস্য বলে পরিচয় দিলেও পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়।

পরে তল্লাশিতে একটি বিজিবির সরকারি পোশাক, দুটি ওয়াকিটকি, দুটি স্টিলের হাতকড়া, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি কাটারি, গ্রাইন্ডার মেশিন, তালা কাটার মেশিন, তালা কাটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

ডিবির মামলার এজাহার অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে বিজিবির সদস্য নন বলে স্বীকার করেন। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, উজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পাঁচটি এবং তোফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। আটক তিনজনকে ২ আগস্ট আদালতে পাঠানো হলে প্রধান আসামি উজ্জল হোসেন জামিন লাভ করেন।

অপর দুই আসামির জামিন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে অভিযুক্ত উজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।