যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের নির্দেশ দিল ইরানি নেতা


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুন ২৮, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ /
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের নির্দেশ দিল ইরানি নেতা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। ছবিঃ সংগৃহীত

খামেনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কিছু নেতার প্রকাশ্য বক্তব্য, যেখানে তারা এসব কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন, এমনকি তা নিয়ে গর্বও করেছেন, সেগুলো ইরানের লঙ্ঘিত অধিকার পুনরুদ্ধারের আইনি ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি দেশটির বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, গত বছর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো যুদ্ধের কারণে দেশের যে অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদায় করতে হবে। তিনি বিশেষভাবে হাসপাতাল, ফিউনারেল হোম এবং জনসেবামূলক স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলোর বিচার দাবি করেছেন।

রোববার (২৮ জুন) ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি এই সংবাদ জানিয়েছে।

শহীদ আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ বেহেশতি ও তার সঙ্গীদের শাহাদাতবার্ষিকীকে ইরানে বিচার বিভাগ সপ্তাহ হিসেবে পালন করা হয়। এ সপ্তাহ উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় খামেনি বলেন, বর্তমানে গোটা ইরানি জাতির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও বিচারিক প্রশ্নগুলোর একটি হলো ‘আন্তর্জাতিক অপরাধী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আগ্রাসী শক্তিগুলোর’ হাতে লঙ্ঘিত অধিকার পুনরুদ্ধার করা।

তিনি বলেন, ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষা শুধু ব্যক্তিগত আইনি বিষয় নয়, বরং বিদেশী আগ্রাসীদের অপরাধের বিরুদ্ধে পুরো ইরানি জাতির অধিকার রক্ষা করাও বিচার বিভাগের দায়িত্ব।

খামেনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিচার বিভাগের দায়িত্ব হলো জনগণের অধিকার রক্ষা, জনস্বার্থ ও বৈধ স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ঐশী আইন বাস্তবায়ন এবং আইন কার্যকরের তদারকি করা। এসব দায়িত্ব সফলভাবে পালন করা গেলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরো শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, গত বছরের পর থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধী ও বৈশ্বিক আগ্রাসীদের হাতে লঙ্ঘিত অধিকার পুনরুদ্ধার করা বিচার বিভাগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে চালানো দুই দফা যুদ্ধের ঘটনায় নিহতদের রক্ত, দেশের ভেতরে ও বাইরে ইরানি জনগণের ওপর নেমে আসা শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও আত্মিক ক্ষতি—এসবের ভিত্তিতে শত শত, এমনকি হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ আইনি মামলা করা সম্ভব।

খামেনি মিনাব ও লামের্দে শিশু হত্যা, নজিরবিহীন যুদ্ধাপরাধ, হাসপাতাল, ফিউনারেল হোম এবং জনসেবামূলক স্থাপনায় হামলার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব হামলায় নবজাতক থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তিনি শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির শাহাদাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। শহীদ আয়াতুল্লাহকে তিনি ‘অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব, যুগের অনন্য রত্ন এবং মহান মুজাহিদ নেতা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনাই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আদালতে গুরুত্বের সাথে অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং তাদের অপরাধের পরিণতি ভোগ করতে বাধ্য করতে হবে।’

খামেনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কিছু নেতার প্রকাশ্য বক্তব্য, যেখানে তারা এসব কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন, এমনকি তা নিয়ে গর্বও করেছেন, সেগুলো ইরানের লঙ্ঘিত অধিকার পুনরুদ্ধারের আইনি ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করেছে।

তিনি বলেন, গত বছর বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে শেষ বৈঠকে শহীদ নেতা ২০২৫ সালের যুদ্ধকালীন অপরাধ তদন্তের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা এখন সর্বশেষ চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। যোগ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

খামেনির মতে, এ ধরনের আইনি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সহায়ক হবে।

বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থায় সার্বিক পরিবর্তন আনতে আন্তরিকতা, তাকওয়া, দৃঢ়তা, সাহস, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও বুদ্ধিমান ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মহান আল্লাহর সহায়তায় এসব লক্ষ্য অর্জিত হবেই।