শার্শায় নারী-শিশু পাচার রোধে যশোর রাইটসের পর্যালোচনা সভা


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৮, ২০২৬, ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ / ০ Views
শার্শায় নারী-শিশু পাচার রোধে যশোর রাইটসের পর্যালোচনা সভা

শার্শায় নারী-শিশু পাচার রোধে যশোর রাইটসের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
৯২ ভুক্তভোগীকে পরিবারের কাছে পুনঃএকত্রীকরণ, আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৫৫ জন

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর- সীমান্তবর্তী যশোরের শার্শা উপজেলায় নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকালে শার্শা উপজেলা কনফারেন্স রুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। এসময় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা যশোর রাইটস আয়োজিত সভায় এসময় গত তিন মাসের পাচার প্রতিরোধ, উদ্ধার, কেস ম্যানেজমেন্ট, আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনঃএকত্রীকরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

মানবাধিকার সংস্থ্যা রাইটস যশোরের উপ-পরিচালক এসএম আজহারুল ইসলামের সঞ্চলনায় প্রধান অতিথীর বক্তব্য রাখেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথী ছিলেন, ইউএনওডিসি আঞ্চলিক অফিসের দক্ষিণ এশিয়ার জাতীয় প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী তাসনিন বিনতা করিম।
এ সময় যশোর রাইটসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এক প্রতিবেদনে রাইটস যশোরের প্রতিনিধিরা জানান, গত চার মাসে পাচারের ঝুঁকিতে থাকা দুই নারী ও শিশুকে জরুরি সুরক্ষা সেবা কেন্দ্রে রেফার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯২ জন ভুক্তভোগীকে নিরাপদে পরিবার ও স্বজনদের কাছে পুনঃএকত্রীকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯ জন ভুক্তভোগীকে নিয়মিত ফলোআপ ও সামাজিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। ফলোআপে থাকা ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২১ শতাংশ ছয় থেকে নয় মাসের সময়ে জীবনযাত্রার মান ও নিরাপত্তাবোধে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, পাচার-সংক্রান্ত ১৩টি আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ১৭ জন ভুক্তভোগীকে সরাসরি আইনি পরামর্শ ও তথ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও প্রশাসনিক অভিযোগ করা হয়েছে ১৩টি।
পাচারের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে পুনঃএকত্রীকরণের অংশ হিসেবে ৯২ জনকে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা পরামর্শ, ৫৫ জনকে প্রত্যক্ষ আইনি সহযোগিতা এবং ২৬ জনকে মানসিক ও সামাজিক কাউন্সেলিং দেওয়া হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তার জন্য ১১ জনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দুটি অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় শার্শা মানব পাচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পাচার প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ফেরত ফেরত আসা নারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিতকরনে জোরদার আহবান জানানো হয়। যশোর রাইটসের মাঠপর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যক্রম প্রশংসা করে বলেন, সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার কমিয়ে আনা সম্ভব।

রাইটস যশোরের কর্মকর্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার, আইনি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।