

খুলনার ডুমুরিয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর ওপর থেকে নদী খননের মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘরের ভেঙে যাওয়া দেয়াল, টিন, দরজা-জানালা মেরামত করা হচ্ছে।
নদীর পাশে জমে থাকা পাহাড়সমান মাটি কেটে চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক পরিবারের মাঝে।
জানা যায়, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় ডুমুরিয়ায় আপার ভদ্রা নদী খননের মাটি সময়মতো সরিয়ে না নেওয়ায় চুকনগর, বরাতিয়া, কাঁঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের অসংখ্য ঘর পাহাড়সমান মাটির নিচে চাপা পড়ে।
মাটির চাপে কারও ঘরের টিন ভেঙে পড়ে। কোথাও দেয়ালজুড়ে ফাটল, ঘরের দরজা-জানালা, বারান্দা পর্যন্ত মাটিতে ঢেকে যায়। উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হলে খুলনা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অবশেষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্দশা লাঘবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদারের মাধ্যমে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর ওপর থেকে নদী খননের মাটি সরিয়ে নেয়।
সরেজমিন দেখা যায়, নদী তীরে সবুজ টিনের সারি সারি ঘরগুলোর ওপর থেকে মাটি সরিয়ে চলাচলের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নদীর ঢালে পানি চলাচলে জায়গা রাখা হয়েছে। ভেঙে যাওয়া পিলার, দেয়াল ও ঘরের বিভিন্ন অংশ মেরামত করছেন শ্রমিকরা।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, যখন মাটির চাপে ঘরগুলো ভাঙতে শুরু করে আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। অনেকে ঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছে। এখন মাটির চাপে ভেঙে যাওয়া দেয়াল ও ঘরের চাল ঠিক করে দিয়েছে।
চলাচলের জন্য নদী তীরে রাস্তা করা হয়েছে। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, অসাবধানতাবশত অতিরিক্ত মাটি খননের ফলে সেগুলো নদীর পাশে রাখতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হয়
তবে গত তিন দিনে ঘরগুলোর ওপর থেকে সব মাটি অপসারণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামত করা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য ২০২১ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় শতাধিক ভূমিহীন পরিবারকে আশ্রয়ণের ঘরে পুনর্বাসন করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :