সংকটের সঠিক কারণ জনগণকে জানাতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৮, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ /
সংকটের সঠিক কারণ জনগণকে জানাতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -পিআইডি

বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সার ও বিদ্যুৎসংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এসব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের অবহিত করেন। সংকটের প্রকৃত কারণ জনগণের কাছে তুলে ধরে সরকার সম্পর্কে যাতে ভুল ধারণা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গতকাল বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক শেষ হয় বেলা সোয়া ১টায়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারসংকটের প্রকৃত কারণ তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি জনগণকে জানাতে হবে।’ সংকট কেন্দ্র করে কেউ যাতে বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কারণে রাতারাতি পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব নয়। তবে লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের মধ্যে ভারসাম্য রাখা হবে।’ সার পরিস্থিতি নিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সার সরবরাহ ও বিতরণ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে। সার নিয়ে কেউ যাতে নাশকতা বা কারসাজি করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আহ্বায়ক করে উপজেলাভিত্তিক কমিটি গঠনের কথা জানান মন্ত্রী। যেসব এলাকায় সারের ডিলাররা পলাতক, সেখানে নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা চান। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ‘মব কালচার’ দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারবিরোধীদের মাঠ তৈরি করার সুযোগ করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন। একই সঙ্গে জানান, আইন নিজের গতিতে চলবে এবং অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বৈঠকে কয়েকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনে জড়িত অনেক পুলিশ কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাক্সিক্ষত উন্নতি হচ্ছে না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট নামের তালিকা দিতে সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করেন। সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়ে সতর্ক থেকে জনগণকে সঠিক তথ্য জানানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল-সমর্থিত সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এবং নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও নির্দেশ দেন তিনি। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের দূরত্ব বা বিরোধ তৈরি করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন বিএনপিপ্রধান।