

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে ফটিছড়ির বাবুনগরে গিয়ে আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দোয়া নিবেন। প্রধানমন্ত্রী আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে কিছু সময় কাটাবেন। পরে হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের মরহুম আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) এবং আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী (রহ.)-এর কবর জিয়ারত করবেন। এরপর হাটহাজারী কলেজ মাঠে দলীয় সমাবেশে বক্তব্য প্রদান এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত একটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফটিকছড়ির বাবুনগর আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জীবনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মুসলমানদের ঈমান আকীদা সংরক্ষণ, দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার, দ্বীনের দাওয়াত, ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং ওলামায়ে কেরামের ঐক্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বহুমুখী খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। তাঁর ইলমী প্রজ্ঞা, প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্ব এবং উম্মাহর কল্যাণে নিরলস প্রচেষ্টা সর্বমহলে প্রশংসিত। বিগত নির্বাচনের আগে তিনি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করে বিএনপিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দেন। তাঁর সমর্থকদের মতে, তাঁর আহ্বান ও ভূমিকার ফলে দেশের বহু ওলামায়ে কেরাম একটি অভিন্ন অবস্থানে উপনীত হন, যা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি ও তারেক রহমানকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনার ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর ভূমিকার কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে আন্তরিকভাবে মহববত করেন। সেই কারণে তিনি হেফাজত আমির থেকে দোয়া নিতে বাবুনগর যাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা মুহতামিম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর দেশের কওমি অঙ্গন ও ইসলামী সমাজে যে নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা পূরণ করেছিলেন শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)। তার ইন্তেকালর পর আল্লামা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী কওমি উলামায়ে কেরাম ও মুসলমানের ঈমান আকীদা সংরক্ষণে সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় সৌজন্য সাক্ষাত করবেন । হেফাজত আমির ১৩ দফা দাবী দাওয়া, আলেম-উলামার প্রত্যাশা,কওমি সনদ বাস্তবায়ন, কওমি মাদরাসাশিক্ষার উন্নয়ন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ, জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও দাবি উপস্থাপন করবেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হেফাজতে ইসলামের আমীরের জন্মস্থান ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ এবং সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে গত সোমবার হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ফটিকছড়ি উপজেলা শাখার এক জরুরি সভা নাজিরহাট বড় মাদরাসায় অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের নায়েবে আমীর মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতের নায়েবে আমীর আল্লামা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি শামসুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা হারুন আজিজ নদভী, মাওলানা জুনাইদ বিন জালাল, শেখ হুসাইন মুহাম্মদ শাহজাহান ইসলামাবাদী, মুফতি শওকত বিন হানিফ, মাওলানা আব্দুল মতিন, মাওলানা ফখরুল ইসলাম, মাওলানা ইলিয়াস, মাওলানা মাহমুদ শাহ ধর্মপুরী, মাওলানা শামসুল আলম, মুফতি খালেদ, মুফতি ওসমান, কারী আবু সাঈদ, মাওলানা ওসমান শাহনগরী, আশরাফ বিন ইয়াকুব, মাওলানা নিজাম উদ্দিন, মাওলানা জুনাইদ জওহর, মাওলানা ফজলুল হক, মাওলানা এরশাদ বিন জালাল ও আজগর সালেহী।
সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করার জন্য এবং দেশের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন, হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী । উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে বাবুনগরে এসে আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের মরহুম আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) এবং আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী (রহ.)-এর কবর জিয়ারত করবেন। এরপর হাটহাজারী কলেজ মাঠে দলীয় সমাবেশে বক্তব্য প্রদান এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত একটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের দিকে তাকিয়ে আছে হাটহাজারী রাউজান ফটিকছড়ি রাঙ্গুনিয়া সীতাকুণ্ডসহ ২ পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলারসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার আনুমানিক ৮০ লাখের অধিক জনসাধারণ। তার এই বক্তব্যর মাধ্যমে উত্তর চট্টলার মানুষকে উপহার স্বরুপ কি ঘোষণা দিয়ে যাবেন সেদিকে এখন সকলের নজর।
প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরে হাটহাজারী ও বায়োজিদ এলাকা হাটহাজারী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি সভা শুরু করেছে। এমনকি হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনও প্রশাসনিক যাবতীয় কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রশাসন ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী পার্বতী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বক্তব্য রাখবেন এ সময় হাটহাজারীর অসহায় গরিব পরিবারের মাঝে বিনামূল্য সরকারি ঘর হস্তান্তর করবেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. তকিবুল হাসান চৌধুরী তকি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী এই আগমন উপলক্ষে সংবিধান সংশোধন সংসদীয় কমিটির সদস্য ও পার্বত্য জেলা বিষয়ক মন্ত্রণাল ও ভূমিপ্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সার্বক্ষণিক হাটহাজারীর পরিস্থিতি এবং কার্যক্রম প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং নিজে এলাকা পরিদর্শন করছেন।Executive Branch
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে গিরে হাটহাজারীতে উপজেলা কর্তৃপক্ষ হাটহাজারী ডাকবাংলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ পুরো হাটহাজারী এখন নতুন রুপে রূপান্তর করা হচ্ছে। সব মিলে এখন হাটহাজারীসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার জনসাধারণের আসা একটাই কি বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
আপনার মতামত লিখুন :