উপজেলা হাসপাতালে সশস্ত্র আনসার মোতায়েন সিদ্ধান্ত এতে ব্যয় হবে ১৫০ কোটি টাকা


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ /
উপজেলা হাসপাতালে সশস্ত্র আনসার মোতায়েন সিদ্ধান্ত এতে ব্যয় হবে ১৫০ কোটি টাকা

দেশের ৪৯৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক নিরাপত্তা এবং মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী রক্ষায় ৪ হাজার ৯৫০ জন সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বছরে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। মূলত হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সুরক্ষা প্রদান এবং মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতির চুরির ঝুঁকি রোধ করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য তিন শিফটে ভাগ হয়ে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি নিরাপত্তা দলে একজন প্লাটুন কমান্ডার (পিসি), একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) এবং আটজন সাধারণ আনসার সদস্য থাকবেন। তাঁদের বেতন, উৎসব ভাতা, রেশন ও চিকিৎসা সুবিধাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য বার্ষিক ১৫০ কোটি টাকার একটি বাজেট প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এই সশস্ত্র পাহারা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সম্মেলনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। সে সময় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত এলো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনেক হাসপাতালে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছিল, যা এখন এই নিয়মিত পাহারার মাধ্যমে সমাধান হবে।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল শাহবাগে এক অনুষ্ঠানে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতেই এই সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, শুধু নিরাপত্তা বৃদ্ধিই নয়, স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান জনবল সংকট দূর করতে খুব শিগগির আরও এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। সরকারের এই পদক্ষেপ চিকিৎসকদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবার মান বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো চিকিৎসাসেবার বড় বাধা ছিল। সশস্ত্র আনসার মোতায়েন করার ফলে চিকিৎসকদের মনোবল চাঙ্গা হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা আরও মানবিক করার এবং সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। জনবল বৃদ্ধির ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসকদের ওপর কাজের চাপ কমবে এবং পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হবে।