জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুন ৫, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ /
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত এখন বিশ্ববাসীর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় মানবজাতির সামনে অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে দেওয়া বাণীতে তিনি বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু সংকটের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মানুষের জীবনযাত্রার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক সহযোগিতা ও কার্যকর উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই সামান্য হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি সূচক-২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনও উচ্চ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

তিনি বলেন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে। উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে আরও টেকসই, আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু ভিত্তির ওপর পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বাণীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট ও বৈশ্বিক কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।