ঢাকার মাল্টিমোডাল পরিবহন পরিকল্পনা, দায়িত্বে একাধিক মন্ত্রণালয় : দাতা সংস্থার প্রকল্প বাতিল ঝুঁকি বাড়ছেই


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ২৯, ২০২৬, ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ /
ঢাকার মাল্টিমোডাল পরিবহন পরিকল্পনা, দায়িত্বে একাধিক মন্ত্রণালয় : দাতা সংস্থার প্রকল্প বাতিল ঝুঁকি বাড়ছেই

রাজধানীর যানজট নিরসনসহ যাতায়াত সহজ করতে ২০১২ সালে গাজীপুর-এয়ারপোর্ট রুটে র‌্যাপিড বাস ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সরকারি নথিতে প্রকল্পের শুরুর তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১২ দেখানো হয়েছে। প্রকল্পটির মূল দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২০.৫ কিলোমিটার এবং লক্ষ্য ছিল গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত দ্রুত ও নির্দিষ্ট লেনে চলাচলকারী বাস সার্ভিস চালু করা। বাস্তবে নির্মাণকাজ অবশ্য পরে শুরু হয়। সরকারি প্রকল্প-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, গাজীপুর ডিপোতে বিআরটি নির্মাণকাজ ২০১৬ সালের মাঝামাঝি শুরু হয়। ২০১৮ সালের আগস্টে প্রকল্প নেয়ার ছয় বছর পরও কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ২০ শতাংশ।

প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় ২০১৬ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ছিল। পরে বারবার সময় ও ব্যয় বাড়ানো হয়। ২০২২-২৩ সালের এডিবির নথিতে সংশোধিত সমাপ্তির সময় ডিসেম্বর ২০২৪ এবং মোট ব্যয় প্রায় চার হাজার ২৬৮ কোটি টাকা দেখানো হয়েছিল। অথচ প্রকল্পটি এখনো পুরাপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি।

ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকাকে একটি সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে ২০২৬-২০৪৫ মেয়াদের নতুন স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) হাতে নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। পরিকল্পনায় ৮টি মেট্রোরেল লাইন, ২টি বিআরটি লাইন, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে, ৩টি রিং রোড, ৮টি রেডিয়াল সড়ক এবং ২১টি মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাবের প্রস্তাব রয়েছে। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মেট্রোরেল, বিআরটি, বাস, সড়ক, রেল ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কে যুক্ত করা। ২০৪৫ সালের মধ্যে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক ২৬৮.৫ কিলোমিটারে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বিশাল পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সংস্থাটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন। ডিটিসিএ-এর আইনগত দায়িত্বের মধ্যে ঢাকার পরিবহন খাতের কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বের মধ্যে সড়ক পরিবহন নীতি, জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিআরটি এবং মাস র‌্যাপিড ট্রান্সজিট (এমআরটি)-সংক্রান্ত নীতি ও উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ মহাপরিকল্পনার সাথে ৮টি মন্ত্রণালয় এবং সংস্থা জড়িত। এই ৮টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এই মন্ত্রণালয়ের। অথচ দুর্নীতির অভিযোগ এই মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে অনেক বেশি। এর অধীনে ডিটিসিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, বিআরটিসি এবং মেট্রোরেল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের কাজ হলো সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন, বাসরুট রেশনালাইজেশন, গণপরিবহন ব্যবস্থার সমন্বয় এবং ট্রাফিক ও পরিবহন অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।

মাল্টিমোডাল ব্যবস্থায় রেলকে মেট্রোরেল, বাস ও অন্যান্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। ডিটিসিএ’র পরিচালনা পরিষদে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক উভয়েই সদস্য। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো কমিউটার ও আঞ্চলিক রেলযোগাযোগ, রেলস্টেশনকে মাল্টিমোডাল হাবের সঙ্গে যুক্ত করা, রেল ও মেট্রোরেল সংযোগ এবং রেলভিত্তিক যাত্রী পরিবহন সম্প্রসারণ করা। এ ছাড়াও আছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। যাদের কাজ হলো ঢাকার চারপাশের নদীকে গণপরিবহনের অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে হলে নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে সড়ক ও রেলের সঙ্গে যুক্ত করা। ডিটিসিএ-এর বোর্ডে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান সদস্য। এ মন্ত্রণালয়ের কাজ হলোÑ নদীপথের যাত্রী পরিবহন, নৌ-টার্মিনাল উন্নয়ন, সদরঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌকেন্দ্রকে অন্যান্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং সম্ভাব্য ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট করিডোর উন্নয়ন করা।

এ পরিকল্পনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিটি করপোরেশনের কাজ হলো নগর সড়ক নির্মাণ, ফুটপাত ও পথচারী অবকাঠামো উন্নয়ন, বাসস্টপ ও স্থানীয় পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণ, সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক ও রাস্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়। ডিটিসিএ-এর পরিচালনা পরিষদে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়ররা যুক্ত রয়েছেন। এ মহাপরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। ডিটিসিএ-এর বোর্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক সদস্য। এ মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব : ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক আইন প্রয়োগ, অবৈধ পার্কিং ও দখল নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নতুন পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করা। এখানে মূল ভূমিকা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। কারণ পরিবহন পরিকল্পনা সফল করতে হলে পরিবহন করিডোরের সঙ্গে ভূমি ব্যবহার ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার সমন্বয় প্রয়োজন। ডিটিসিএ-এর পরিচালনা পরিষদে রাজুক চেয়ারম্যান সদস্য হিসেবে রয়েছেন। রাজউকের প্রধান কাজ হলো ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে পরিবহন সংযোগসহ পরিবহন হাব ঘিরে পরিকল্পিত নগরায়ণ।

এ ছাড়াও আছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। বৃহৎ পরিবহন প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব, বায়ুদূষণ ও জলবায়ু-সহনশীল পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়টি এই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিটিসিএ-এর পরিচালনা পরিষদে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সদস্য। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কারণ এত বড় পরিবহন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিপুল সরকারি ও বৈদেশিক অর্থায়ন প্রয়োজন হবে। ফলে অর্থ বিভাগ প্রকল্পের বাজেট, অর্থায়ন কাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমত, এত বড় মহাপরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন পরিকল্পনা নয়, সমন্বয়। অর্থাৎ একই শহরের পরিবহন ব্যবস্থার ওপর একাধিক সংস্থার দায়িত্ব রয়েছে। একটি মেট্রোরেল স্টেশনকে যদি বাস, রেল, নৌপথ ও পথচারী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হয়, তাহলে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সিদ্ধান্ত একই সময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিটি সংস্থা নিজের প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে কিন্তু পুরো নেটওয়ার্ককে একসঙ্গে না দেখলে মাল্টিমোডাল ব্যবস্থা কার্যকর হবে না। দ্বিতীয়ত, ভূমি ব্যবহার ও পরিবহন পরিকল্পনার বিচ্ছিন্নতা। নতুন আবাসিক বা বাণিজ্যিক এলাকা তৈরি হওয়ার পর সেখানে পরিবহন ব্যবস্থা নেয়ার বদলে শুরু থেকেই পরিবহনকে নগর পরিকল্পনার অংশ করতে হবে। তৃতীয়ত, বাস ও গণপরিবহন সংস্কার। শুধু মেট্রোরেল বা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করলেই যানজট কমবে না। মেট্রো স্টেশন থেকে যাত্রীকে শেষ গন্তব্যে নেয়ার জন্য বাস, হাঁটা, রিকশা ও অন্যান্য পরিবহনের কার্যকর সংযোগ প্রয়োজন।

এলজিইডির একজন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বলেন, সড়কসহ বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে বিদেশি দাতা সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু আমাদের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে দাতা সংস্থাগুলো প্রকল্প বাতিল করছে। এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্প ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের পর প্রায় এক দশক বাংলাদেশের সড়ক খাত থেকে দূরে ছিল বিশ্বব্যাংক। এরপর সড়ক এ খাতে ফিরে এসে ২০২০ সালে পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে ‘ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিয়নাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম’ বা উইকেয়ার প্রকল্পে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেয় সংস্থাটি। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও নানা সমস্যার কারণে সেই ঋণের ৬৭ শতাংশই এখন বাতিল করেছে বিশ্বব্যাংক।

বাতিল হওয়া ঋণের পরিমাণ ৩৩৫.৩৩ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় চার হাজার ১২৪ কোটি টাকা। ফলে প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ হিসাবে এখন ব্যবহার করা যাবে মাত্র ১৬৪.৬৭ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালনে পরিবর্তন আসায় প্রকল্পের ব্যবস্থাপনাতেও কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বব্যাংক বর্তমানে বিভিন্ন দেশে ধীরগতির প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশ থেকেও কয়েকটি ধীরগতির প্রকল্পের অর্থ বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের আরো আটটি ধীরগতির প্রকল্প থেকে বাতিল হওয়া অর্থ জ্বালানি-সংকট মোকাবিলায় অন্য খাতে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। উইকেয়ার প্রকল্পের বাতিল হওয়া অর্থও অন্য কাজে ব্যবহারের বিষয়ে পরবর্তী অর্ধবার্ষিক বৈঠকে সমাধান হবে বলে আশা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেম সংবাদমাধ্যকে বলেন, ২০২০ সালে উইকেয়ার প্রকল্পের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করা হলেও ছয় বছরে ছাড় হয়েছে প্রায় ১১৬ মিলিয়ন ডলার। কোভিড-১৯সহ বিভিন্ন কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব হয়। সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় প্রকল্পের বিলম্বের কারণ, ঠিকাদারদের কাজ এবং পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে। বাস্তবায়নযোগ্য কাজগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে প্রকল্প পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ৩৩৫.৩৩ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি। তাই নতুন স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানে (এসটিপি) মেট্রোরেল, বিআরটি, বাস, সড়ক, রেল ও নৌপথকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কে আনার উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে শুধু মেট্রোরেল বা বিপুলসংখ্যক সড়ক নির্মাণ করলেই যানজটের সমাধান হবে না। যাত্রী যেন এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে সহজে, দ্রুত ও কম খরচে স্থানান্তর করতে পারেন সেই অনুযায়ী মাল্টিমোডাল হাব, ফিডার বাস, হাঁটার পথ, সাইকেল সুবিধা এবং অভিন্ন টিকিটিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে একাধিক সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার, পর্যায়ভিত্তিক অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন-তদারকি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সমন্বিত পরিকল্পনায় সড়ক, রেল, নৌ ও নগর পরিবহনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরিকল্পনা করা যেতে পারে।