ভোট গণনা যত বাড়ছে ততই নেতানিয়াহুর ভোটও কমছে


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ / ০
ভোট গণনা যত বাড়ছে ততই নেতানিয়াহুর ভোটও কমছে

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি। তবে ভোট গণনা এগোনোর সঙ্গে দলটির প্রাপ্ত ভোটের হার কমছে। অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টির ভোটের হার কিছুটা বেড়েছে। এতে নির্বাচনের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আল জাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২১ লাখ ২৩ হাজার ভোট গণনা করা হয়েছে। এতে লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট। আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট। আর ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ৯ দশমিক ২২ শতাংশ ভোট। তবে এসব হিসাব প্রাথমিক; ভোট গণনা শেষে দলগুলোর অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রাথমিক ফলাফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন ‘বিইয়াচাদ’ জোটও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। দলটি পেয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভোট। এ ছাড়া অতি-গোঁড়া ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম পেয়েছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ, ইসরাইল বেইতেনু ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং উগ্র ডানপন্থী ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট।

এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ৭৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৮১ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮২ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোটার উপস্থিতিও বেড়েছে।

তবে এককভাবে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দলই যে সরকার গঠন করবে, ইসরাইলের সংসদীয় ব্যবস্থায় এমন নিশ্চয়তা নেই। নেসেটের ১২০টি আসনে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে দলগুলোকে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত হতে হয়। কোনো দল বা তালিকাকে আসন বণ্টনের যোগ্য হতে হলে কমপক্ষে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এরপর সরকার গঠনের জন্য বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট ও সমঝোতা প্রয়োজন হয়।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপেও কোনো পক্ষের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আভাস পাওয়া যায়নি। কয়েকটি জরিপে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটকে প্রায় ৫২টি আসন এবং আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটকে ৪৯টির মতো আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। তবে বুথফেরত জরিপের ফল চূড়ান্ত ভোটের ফল নয়।

এ অবস্থায় সরকার গঠনের জন্য ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কোনো পক্ষই ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন নিশ্চিত করতে না পারলে দীর্ঘ দর-কষাকষির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে লিকুদ পার্টি এককভাবে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ভর করবে আসন বণ্টন ও জোট গঠনের সমীকরণের ওপর।

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, ভোট গণনা এখনো চলছে। প্রাথমিক ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে এবং চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে কোনো দল বা জোটের সরকার গঠন নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময় ৪ নভেম্বর।