ভূমিপূজায় ধর্মনিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয় না কেবল মসজিদের ক্ষেত্রেই ‘অ্যালার্জি’-মোদি সরকারকে একহাত নিলেন ওয়াইসি  


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৫, ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ / ০ Views
ভূমিপূজায় ধর্মনিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয় না কেবল মসজিদের ক্ষেত্রেই ‘অ্যালার্জি’-মোদি সরকারকে একহাত নিলেন ওয়াইসি  

‘সরকারি প্রাঙ্গণে অবস্থিত মসজিদ ধর্মনিরপেক্ষ বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী’—ভারতের কেন্দ্র সরকারের এমন দাবির তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি মন্তব্য করেন যে, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ক্ষুণ্ণ হয় না, কিন্তু কেবল মসজিদের ক্ষেত্রেই এর ‘অ্যালার্জি’ দেখা দেয়।

দিল্লি হাইকোর্টে হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারের জমা দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যের পরদিনই ওয়াইসি এ মন্তব্য করেন। সেন্ট্রাল ভিশ্টা প্রকল্পের আওতায় নয়া দিল্লির সরকারি দপ্তর প্রাঙ্গণে অবস্থিত শতবর্ষী প্রাচীন ‘কাদিমী মসজিদ’টি ভেঙে ফেলার প্রয়োজনীয়তার কথা আদালতকে জানিয়েছে কেন্দ্র। এর পেছনের কারণ হিসেবে উগ্র সাম্প্রদায়িক বিজেপি সরকার দাবি করেছে— সরকারি সম্পত্তিতে মসজিদের অবস্থান তার ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ওয়াইসি লেখেন, “কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি হাইকোর্টকে জানিয়েছে যে, নয়া দিল্লির কৃষি ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত শতবর্ষী প্রাচীন কাদিমী মসজিদটি অপসারণ করতে হবে, যাতে সেন্ট্রাল ভিশ্টা প্রকল্পের অধীনে নতুন ‘সমন্বিত কেন্দ্রীয় সচিবালয়’ (সিসিএস) গড়ে তোলা যায়।”

তিনি বলেন, সরকার যুক্তি দিচ্ছে সরকারি জমিতে এই মসজিদটি অনুমোদনহীন এবং তা সরকারি সম্পত্তির ধর্ম নিরপেক্ষ চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অথচ ক্ষমতাসীন দলটি নিজেই এই প্রকল্পের সূচনা করেছিল ‘ভূমিপূজা’ নামক বিশেষ একটি ধর্মীয় আচার পালন করে।

ওয়াইসি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্পষ্টতই, কোনো সরকারি প্রকল্পের জন্য একটি বিশেষ ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান ব্যবহারে ধর্মনিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হয় না, কিন্তু ১৯১২ সালে কৃষি ভবন নির্মাণেরও অনেক আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মসজিদের ক্ষেত্রেই ধর্মনিরপেক্ষতার যত অ্যালার্জি!”

সেন্ট্রাল ভিশ্টা প্রকল্প ও সরকারের দাবিঃ

২০১৯ সালে ৩.২ কিলোমিটার দীর্ঘ সেন্ট্রাল দিল্লি এলাকাকে ঢেলে সাজানোর উদ্দেশ্যে সেন্ট্রাল ভিশ্টা প্রকল্প শুরু হয়, যার মূল লক্ষ্য নতুন সমন্বিত কেন্দ্রীয় সচিবালয় ভবন নির্মাণ করা। ইতোমধ্যে নতুন সংসদ ভবন, উপ-রাষ্ট্রপতির বাসভবন, কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর নতুন কার্যালয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের সদর দফতর ‘কৃষি ভবন’ ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের মাধ্যমে জমা দেওয়া কেন্দ্র সরকারের স্ট্যাটাস রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, মসজিদটি সরকারি জমিতে নির্মিত এবং এর পরিচালনা কমিটিকে কেবল সাময়িক বা অস্থায়ী ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারের মতে, এই পুরো কমপ্লেক্সটি কেবল প্রশাসনিক, সরকারি বা জনসেবামূলক কাজের জন্য নির্দিষ্ট।