চীনা সৌরপণ্য আফগানিস্তানের জনজীবন ও কৃষির চিত্রকে বদলে দিচ্ছে


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : আগস্ট ৫, ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ /
চীনা সৌরপণ্য আফগানিস্তানের জনজীবন ও কৃষির চিত্রকে বদলে দিচ্ছে

কাবুলের একটি ব্যস্ত সৌরপণ্যের বাজার। সারি সারি সাজানো সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও ইনভার্টারের দোকান। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে ক্রেতারা দাম যাচাই করছেন, কেউ জানতে চাইছেন বাড়ির জন্য কোন সিস্টেম ভালো হবে, আবার কেউ খুঁজছেন কৃষিজমিতে সেচের উপযোগী সৌর সমাধান। বিদ্যুতের ঘাটতিতে দীর্ঘদিন ভোগা আফগানিস্তানে এখন এমন দৃশ্যই যেন নতুন বাস্তবতা।

আফগানিস্তানে সৌরবিদ্যুতের প্রতি মানুষের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শুধু শহরের পরিবার নয়, ব্যবসায়ী, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এমনকি কৃষকরাও ক্রমশ সৌরশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছেন। আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে চীনে তৈরি সৌরপণ্য।

কাবুলের একজন সৌরপণ্য বিক্রেতা কারি গুল আলম সামিম জানান, আফগানিস্তানে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ সৌরপণ্যই চীন থেকে আসে। কয়েক বছর আগেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ক্রেতাদের পুরোপুরি প্রযুক্তিবিদের ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে।

অনেকেই নিজেই সোলার সিস্টেমের মৌলিক কার্যপ্রণালি বুঝে গেছেন এবং কেনার পর নিজেরাই অনেকটা স্থাপন করতে পারেন।

এই বাজারের ক্রেতাদের প্রয়োজনও বৈচিত্র্যময়। কেউ বাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, কেউ দোকান বা ছোট ব্যবসা সচল রাখতে, আবার অনেক কারখানা স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌরশক্তির দিকে ঝুঁকছে। কৃষকরাও সেচের জন্য সৌরচালিত পানির পাম্প ব্যবহার করছেন, যা তাদের উৎপাদন ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

কাবুলের বাসিন্দা নুসরাতুল্লাহ মোহাম্মদ খাইলের অভিজ্ঞতা অনেক আফগানের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। শীতকালে দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর গ্রীষ্মে চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে তিনি বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেন। এখন সেই সিদ্ধান্তে তিনি সন্তুষ্ট। তার ভাষায়, মানসম্মত ব্যাটারি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে বহু বছর নির্ভরযোগ্য সেবা দেয়।

সৌরপণ্যের আরেক ব্যবসায়ী হাজি কারি জানান, মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়টিই ব্যবসার সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম। এই সময় আফগানিস্তানে শত শত কনটেইনারে সৌরপণ্য আসে। বিশেষ করে ৬০০ ও ৭০০ ওয়াটের সিস্টেমগুলো সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, কারণ এগুলো একটি সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা সহজেই পূরণ করতে পারে।

শুধু শহর নয়, গ্রামের চিত্রও বদলাচ্ছে। কাবুলের উপকণ্ঠের এক কৃষক আহমদ আগে সেচের জন্য ডিজেলচালিত পাম্প বা অনিয়মিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতেন। এতে খরচ যেমন বেশি ছিল, তেমনি অনিশ্চয়তাও ছিল নিত্যসঙ্গী। এখন ছোট একটি সৌরচালিত পাম্প বসানোর পর তিনি দিনের বিভিন্ন সময় নিয়মিত জমিতে পানি দিতে পারছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় কমেছে, সেচের কাজও হয়েছে আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য।