খামেনির কফিনের পাশে ১৪ মাসের নাতনির কফিন,‘প্রতিশোধের’ স্লোগান তেহরানে


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ৪, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ /
খামেনির কফিনের পাশে ১৪ মাসের নাতনির কফিন,‘প্রতিশোধের’ স্লোগান তেহরানে

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আজ শনিবার রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এই বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়, যেখানে প্রয়াত নেতাকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হয়েছেন লাখো শোকাহত ইরানি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই ক্ষমতাধর নেতা নিহত হন। গতকাল শুক্রবার তাঁর মরদেহ তেহরানে নিয়ে আসা হয় এবং আজ সকাল থেকে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ভেন্যু উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

হৃদয়বিদারক দৃশ্য ও জনসমুদ্রঃ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো আয়াতুল্লাহ খামেনির কফিনের ওপর রাখা ছিল তাঁর আজীবন ব্যবহৃত প্রতীকী কালো পাগড়ি। তবে অনুষ্ঠানস্থলের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি ছিল খামেনির কফিনের পাশে রাখা তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের মরদেহ। এর মধ্যে সবার নজর কেড়েছে একই হামলায় নিহত তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানির ছোট্ট কফিনটি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন (দেড় থেকে দুই কোটি) মানুষের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালের দিকে ফটক খুলে দেওয়ার সাথে সাথেই বিশাল এই কমপ্লেক্সের মূল চত্বরটি লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

কণ্ঠে ক্ষোভ, হাতে লাল ব্যানারঃ বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শোকমিছিলে অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষের হাতে ছিল লাল ব্যানার, যা ইরানি সংস্কৃতিতে ‘প্রতিশোধের প্রতীক’ হিসেবে বিবেচিত। এ সময় শোকগ্রস্ত জনতাকে ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা এপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৭ বছর বয়সী এক ইরানি তরুণ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি এখানে আমার প্রিয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বিদায় জানাতে এসেছি। আমি কখনো ভাবিনি এমন একটি দিন দেখতে হবে। এই ট্র্যাজেডি দেখার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো!”

কান্নায় ভেঙে পড়লেন শীর্ষ কর্মকর্তারাঃ গতকাল বিশ্ব নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা খামেনির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় ইরানের পার্ল্যামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার শীর্ষ মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে ক্যামেরার সামনেই কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আহমদ ওয়াহিদিও, যাঁকে খামেনির সাথে একই হামলায় নিহত পূর্বসূরির স্থলাভিষিক্ত করে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিঃ খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানটি ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের বিভিন্ন শহরে মোট ছয় দিন ধরে চলবে। সোমবার পর্যন্ত: কফিন তেহরানে রাখা হবে এবং সোমবার একটি বিশাল শোকমিছিল বের হবে। মঙ্গলবার: মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র কোম নগরীতে। বুধবার: প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকের বিভিন্ন শিয়া প্রধান ও ঐতিহাসিক শহরে জানাজার জন্য নেওয়া হবে। শুক্রবার: উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে, যা খামেনির জন্মস্থান, সেখানে তাঁর চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হবে।