কাজীর শিমলায় নজরুল স্মৃতিকেন্দ্রটি এখন অবহেলায় জর্জরিত


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : মে ২৫, ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ /
কাজীর শিমলায় নজরুল স্মৃতিকেন্দ্রটি এখন অবহেলায় জর্জরিত

ময়মনসিংহের কাজীর শিমলায় অবহেলায় পড়ে আছে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্রটি। ১৯১৪ সালে ভারতের আসানসোলে একটি রুটির দোকানে কাজ করতেন কিশোর নজরুল। সেখানেই তার সাথে পরিচয় হয় রফিজউল্লাহ দারোগার। নজরুলের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তিনি তাকে ময়মনসিংহে নিয়ে আসেন এবং ত্রিশালের কাজীর শিমলায় রাখেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাজীর শিমলা গ্রামে গড়ে ওঠা নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র বছরের বেশিরভাগ সময় পড়ে থাকে অযত্ন ও অবহেলায়। ফলে দিন দিন কমছে দর্শনার্থীর সংখ্যা।

জানা যায়, ১৯১৪ সালে ভারতের আসানসোলে একটি রুটির দোকানে কাজ করতেন কিশোর নজরুল। সেখানেই তার সাথে পরিচয় হয় রফিজউল্লাহ দারোগার। নজরুলের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তিনি তাকে ময়মনসিংহে নিয়ে আসেন এবং ত্রিশালের কাজীর শিমলায় রাখেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে দারোগাবাড়িতে থাকলেও পরে পড়াশোনার সুবিধার্থে নজরুলকে দরিরামপুর হাই স্কুলে ভর্তি করা হয়। প্রতিদিন প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যাওয়া কষ্টসাধ্য হওয়ায় তিনি নামাপাড়ার বিচুতিয়া বেপারীর বাড়িতে জায়গির হিসেবে থাকতেন। পুকুরপাড়ের একটি ছোট ঘরেই কাটে তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়।

এই স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে নির্মাণ করা হয় নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র। সেখানে এখনো রয়েছে কবির ব্যবহৃত কাঠের খাট, পুরোনো গ্রামোফোন, দেয়ালজুড়ে হাতে লেখা কবিতা ও বিভিন্ন আলোকচিত্র। তবে যথাযথ সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহাসিক এসব নিদর্শন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, যে বটগাছের নিচে বসে কবি সাহিত্যচর্চা করতেন, সেটিও এখন অযত্নে পড়ে আছে। একসময় দর্শনার্থীদের ভিড় থাকলেও বর্তমানে সেখানে আসেন মূলত ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে আসা কিছু মানুষ। অনেকেই জানেন না এই স্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব।

বিচুতিয়া বেপারী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণে তারা জমি দিলেও বর্তমানে তাদের কোনো খোঁজ নেয় না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকি নজরুলের নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্যও স্বল্প মূল্যে জমি দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।

এদিকে স্মৃতিকেন্দ্রে যাওয়ার সড়কের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে দর্শনার্থীদের আগ্রহ কমে গেছে। স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির দিনে সেখানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সন্ধ্যার পর এলাকা হয়ে ওঠে অনিরাপদ।

স্মৃতিকেন্দ্রের পরিচালক ফয়জুল্লাহ রোমেল জানান, এখানে কবির গান, কবিতা সংরক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। দর্শনার্থী বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটালাইজেশনের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন বলছে, জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। শুধু জন্মজয়ন্তী উপলক্ষেই নয়, সারা বছর নজরুলের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে কবির স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণ করা হোক।