তেলের সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবেঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ /
তেলের সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবেঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর 

‘সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, তেলের সঙ্কট সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিমভাবে। কিছু অসাধু চক্র তেল মজুত করে কালোবাজারে বিক্রি করছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর।’ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশে তেলের প্রকৃত কোনো সঙ্কট নেই; বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকার বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে। যারা এই কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইরান, আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বে হঠাৎ করে একটা দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। এ দুর্যোগের প্রভাবে সমগ্র বিশ্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাংলাদেশে তেলের সরবরাহে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। আমাদের দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের দীর্ঘ লাইন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি অনেকটাই কৃত্রিম।’

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।দেশের খবর

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, তেলের সঙ্কট সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিমভাবে। কিছু অসাধু চক্র তেল মজুত করে কালোবাজারে বিক্রি করছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের কৃষকরা সবসময়ই মার খায়। এবারো তারা আলুতে বিশাল মার খেয়েছে। তারা দাম পায়নি। তাদের উৎপাদন খরচটাও ওঠেনি। আমরা আমাদের এসব কৃষক ভাইদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই তাদের কৃষক কার্ড দেয়ার কাজ চলছে। এছাড়াও কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারে সেজন্য কৃষিভিত্তিক এলাকাগুলোতে আমরা কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য কৃষি জোন ও কৃষি হিমাগার তৈরি করব। কারণ কৃষক বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচব।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন করে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে দেশ। অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

পরে মির্জা ফখরুল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ শ’ পরিবারকে এক বান্ডিল করে টিন ও তিন হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান এবং ৮০ পরিবারকে ছয় হাজার ২৫০ টাকা করে প্রদান করেন।

এ সময় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৭০ পরিবারকে এক বান্ডিল করে টিন ও ৬০ পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া ৮৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হয়।

এ সময় মোট প্রায় ২০ কোটি টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এর মধ্যে আরো রয়েছে ১৯৫টি মসজিদ, ৮৯টি মন্দির, পাঁচটি কবরস্থান, চারটি ঈদগাহ ও একটি শ্মশানসহ মোট ২৯৪টি প্রতিষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল আলম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।