ফরিদপুরের মারুফের বিমান আকাশে উড়লো


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ১:০৬ অপরাহ্ণ /
ফরিদপুরের মারুফের বিমান আকাশে উড়লো

ফরিদপুরের ছেলে মারুফের বানানো বিমান উড়ল পদ্মাপারের আকাশে।

গত একটি বছর আগে প্রথম বানানো প্যারাগ্লাইডার বানিয়ে আকাশে উড়ে চমক দেখিয়েছিলেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নের খেজুরতলা মহল্লার সন্তান মারুফ মোল্যা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সদরপুরের মারুফের গ্রামের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায় মারুফের বাড়ীতে অনেক উৎসুক জনতার ভীড়।

এই যুবক এবার একজন লোক বহনযোগ্য বিমান তৈরি করে প্রথমবারের মতো আকাশে উড়তে পুরো জেলার মানুষকে হতবাক করেছেন।

কিশোর অবস্থায়ই আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখছিল মারুফ। কক্সবাজার-টেকনাপ বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রপাড়ে প্যারাগ্লাইডারে বহুজনকে উড়তে দেখে আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখে মারুফ। পরবর্তীতে ইউটিউব দেখে প্যারাগ্লাইডার তৈরির চেষ্টা চালায়।এরপর ৬ মাস চেষ্টার পর সফল হয় সে।

পরিবর্তিতে মানিকগঞ্জের জুলহাসের বানানো বিমান, আকাশে উড়তে দেখে তাকে পেয়ে বসে বিমান বানানোর নেশায়। এরপর ৭ মাস যাবৎ অক্লান্ত পরিশ্রমে বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে প্রথমবারের মতো তার তৈরি ছোট এক আসনের বিমানটি আকাশে উড়াতে সক্ষম হয়।

যদিও বিমানটি বেশি দুর উপড়ে উঠতে পারেনি। তারপরও বেশি উড়ানোর আশা ছাড়েনি মারুফ। তার পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে এসএসসি পাশের পর পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেননি সে।

কিন্তু তার মনোবল এবং আকাশে উড়ার ইচ্ছে -আকাঙ্খা তাকে কোনোভাবেই দমাতে পারেনি।

এর আগে গত বছর প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে সদরপরবাসীকে চমক দেখিয়েছিলেন মারুফ। এবার তার তৈরি বিমান আকাশে উড়িয়ে সবার মাঝে বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন। এই বিমান দেখতে তার বাড়িতে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন এবং বিমানটি উড়ার সময় শতশত মানুষের ভিড় জমে। প্রতিদিন উৎসুক মানুষ বিমান দেখতে আসছেন। কেউ শেলফি তুলছেন কেউ বা করছেন ভিডিও।

এই বিষয়ে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই কিছু না কিছু তৈরি করত মারুফ। হঠাৎ দেখা গেল প্যারাগ্লাইডারে আকাশে উড়াছে মারুফ।

এবার মারুফের তৈরি করা বিমান আকাশে উড়াতে দেখে গ্রামের আনেকেই এখন গর্ববোধ করছেন। এছাড়াও এরমধ্যেই তিনি ইলেকট্রিক্যাল থেরাপি মেশিনও তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। মারুফের বক্তব্য যাদের হাত-পা ঘামে তারা এ মেশিনের সাহায্যে উপকার পেতে পারেন।

এই বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মোঃ মিজান,ও প্রভাত কুমার সাহা বলেন, মারুফের তৈরি বিমান আকাশে উড়ার পর এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ বইছে। যদিও মাত্র কয়েক ফুট উপড়ে উঠতে পেরেছে। এই খবরে তথা আকাশে উড়ার খবর শুনে তারা দেখতে আসছেন।

কথা হয়, মারুফ মোল্লার সাথে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই আকাশে উড়ার ইচ্ছে ছিল আমার । আমি গত বছর প্রায় ৬ মাসের প্রচেষ্টার পর প্যারাগ্লাইডার তৈরি করে আকাশে উড়তে সক্ষম হয়েছি। এবার ছোট আকারের একজন বহনকারী বিমানে আকাশে উড়তে পেরে অনেক ভালো লাগছে।

আমার তৈরি বিমান নিয়ে কীভাবে আরও উচুতে উঠতে পারি সেই চেষ্টাই করছি। কিছু অভিজ্ঞতা ও সাহস সঞ্চয় করে আকাশে উড়ার চেষ্টা চালাচ্ছি। চেষ্টা করছি কিভাবে আরো উপরে উঠা যায়।

তিনি আরো বলেন, বিদেশ থেকে প্যারাগ্লাইডার আনতে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হয়, কিন্তু আমি মাত্র ১ লাখ টাকায় এটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। আর একটি ছোট বিমান কিনতে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়। সেখানে আমার তৈরি ছোট বিমান তৈরি করতে খরচ হয়েছে মাত্র দেড় লাখ টাকার মতো।

যদি সরকারের সহযোগিতা পাই, বড় বিমান তৈরি করার ইচ্ছে আছে আমার। এর জন্য অনেক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে, আমি সরকারের সাহায্য চাই।

এই বিষয়ে সদরপুর চরবিষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মারুফের উদ্ভাবনী মেধা আছে এবং তা প্রমানও করছে। তাকে যদি সহযোগিতা করা যায় তাহলে আমাদের উপজেলার সুনাম বয়ে আনবে।

তার তৈরি বিমান উড়ার কথা শুনেছি। এছাড়া মারুফের তৈরি নতুন নতুন অবদান এলাকার মানুষের মধ্যে এক নতুন সম্ভাবনা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। আমার জানামতে, মারুফের বিমান দেখতে এবং তার সাথে কথা বলতে বহু মানুষ এবং সংবাদকর্মীরা ও তার সাক্ষাৎকার নিতে কথা বলছেন। আমি মারুফের অগ্রগতি কামনা করছি।