ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানালেন শ্রমিক নেতা সহিদ আলী


Shohel Rana প্রকাশের সময় : জুলাই ১০, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ /
ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানালেন শ্রমিক নেতা সহিদ আলী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সম্মান-সুনাম রক্ষায় তিনি বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫-এর সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্দরের চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মিথ্যা তথ্যের ভিডিও প্রকাশ হয়।

যেখানে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে বন্দরের চুরির ঘটনায় বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫-এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী জড়িত রয়েছে বলে স্বীকারোক্তি নেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫-এর সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম।

তবে সত্য এটা যে, সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী বা ৯২৫ ইউনিয়নের কোন ব্যক্তি কোন চুরির ঘটনায় জড়িত নয়। এমন জঘন্যতম কর্মকান্ড ঘটাো বা যারা ঘটিয়েছে সকলকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির আবেদন করছি।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে বেনাপোল পোর্ট থানায় মো. সহিদ আলীর করা সাধারণ ডায়েরিটি জিডি নম্বর-৩৭৩ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। জিডিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫-এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মো. সহিদ আলী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে “Crime News bd” নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।একই সঙ্গে তার ভাতিজা জামাতা মো. শহিদুল ইসলাম শহীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সহিদ আলী বলেন, “একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার দীর্ঘদিনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডে অর্জিত সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যেসব অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলোর কোনো সত্যতা নেই। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত চরিত্রহননের অপচেষ্টা।তিনি আরও বলেন, “আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচারের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ব্যক্তি-মানহানির পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতাও সৃষ্টি করতে পারে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধে উৎসাহিত না হয়।