রেবেকা টপি’র ‘এক গুচ্ছ কবিতা’


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ /
রেবেকা টপি’র ‘এক গুচ্ছ কবিতা’

নিরন্তর ছলনা
কলমেঃ রেবেকা টপি

বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ,পড়ান্ত বিকেল
গোধূলির শেষ আলোয় আবির রাঙা।

তোমার এলোচুলে মোহনীয় পেলবতা।
নীড়ে ফেরা পাখির ক্লান্ত পাখায়
স্বপ্নেরা দোলে নানা বাহানায়।

সময়ের স্রোতে আবেগের স্বপ্নীল আহবানে,
জীবনের প্রতিটি ক্ষণে বেঁচে থাকার নিরন্তর ছলনা।

এমনি জীবন বেমালুম চলে নিজ নিয়মে,
সময়ের হাত ধরে পাওয়া না-পাওয়ার
লম্বা তালিকা সাথে নিয়ে অগোচরে।

তুমি চলে গেলে

তুমি চলে গেলে গোধূলির শেষ আলোর মতো,
রেখে গেলে ঝরা পাতার ক্রন্দন,বিরহী শঙ্খচিলের ডানায় আঁকা অতৃপ্ত স্বপ্ন।

তুমি চলে গেলে সাগরের বুকে উচ্ছসিত ঢেউয়ের মতো,
বিদগ্ধ স্মৃতিময় কিছু প্রহরের অজানা সাক্ষী হয়ে।

তুমি চলে গেলে শরতের শিউলির অস্ফুট অভিমানের মতো,
শিশিরের শব্দের মত মিলিয়ে গেলে সূর্যালোকের অগ্নীস্নানে।

তুমি চলে গেলে সীমাহীন আকাশে সাদা মেঘের চঞ্চল স্বপের মতো,
আকাশ জুড়ে স্মৃতির পরশা থরে থরে সাজিয়ে।

আকাশের মন খারাপ

আকাশের আজ বড্ড মন খারাপ।
বৈশাখের ঝড় ওলটপালট দিগ্বিদিক,
মায়াময় বৃষ্টি শীতল করে দিল
প্রকৃতির তপ্ত উঠোন।

গাছের শাখায় যুদ্ধ থেমেছে,ওরা ঠিক আমার মতো ক্লান্ত।
কবির কলম বেরিয়ে এসেছে।
লিখবে, আমাকে আর ক্লান্ত বৈশাখের বিকেল নিয়ে।

পাঠকপাড়ায় মৃদু কোলাহল,
বেসুরো কন্ঠে কত গান ভেসে আসে
জানালার বোবা কাঁচ ভেদ করে।
হিসেব জানিনা তার, সুখ -দুঃখ নাকি বিরহের?

নীড় হারা পাখির বিলাপে কেঁদে ওঠে
সবুজ গাছেরা,
আমি শুধু চেয়ে দেখি ঘুমহীন কৃষক আর গোমড়া মুখো বৈশাখের আকাশ
পানে।

আমি এক নারী

আমি কুল কাঠের আগুনে পুড়ে
ঝলসানো এক নারী,
আমার মৃত্যু হয় না,
আমি বার বার জেগে উঠি ভিসুভিয়াসের জলন্ত লাভা হতে।

এ সমাজ, এ জগত সংসার নারী বলে যে শেকল আমাকে বেঁধে দিয়েছে ,
সে শেকল ছিঁড়ে গণ্ডীর বাইরে যেতে আমি পারি না, বার বার হেরে যাই।

বিধাতা আমার কোমল হৃদয়ে দিয়েছে আকাশের মতো উদারতা, পাহাড়ের মতো ধৈর্য্য।
অবহেলিত এক সংসারে আমাকে তিলে তিলে শেষ হতে দেখেও,
কারো কিছুই করার নেই আমার জন্য।
কারন আমি যে নারী,
যাকে তোমরা অনায়াসে মেয়ে মানুষ আখ্যা দিয়ে আলাদা এক প্রজাতিতে
পরিণত করেছো।

এই অবলা নারী সংসার ভালোবেসে নিজের চাওয়া পাওয়া বিসর্জন দেয়।
পরিণত হয় দাসীতে ,তখন তোমার কাছে হয় অসামাজিক।
নিয়ন আলোয় রেস্টুরেন্টে বসে
এ নারীর কাছে তুমি হিরো হতে চাও না।
তুমি চাও চাকচিক্যময়,অতিশয় যত্নে
চেহারায় পালিশ করা সৌখিন নারীর কামনা সঙ্গী হতে।

সংসারে কতটা নারীর অবদান
তা বুঝতে তাকে অবসর দাও দু’দিন।
তখনই বুঝবে কতটা নির্ভরতার নাম
এই মায়াময়ী স্নেহময়ী নারী।
নিয়ত কত স্বপ্ন খুন হয় এ নারীর
গহীন হৃদয়ে,কে রাখে তার খোঁজ?

লম্বা হিসেবের খাতা মুছে যায় ছেলের
ঘুমপাড়ানি গানের আড়ালে,
নিজেকে কোটি অমাবস্যায় সঁপে দেয় সন্তানের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে।
তবুও দিনশেষে সে বড্ড অসহায়,বড্ড একা।

আর কতকাল খেলবে হে পুরুষ সেই প্রাগৈতিহাসিক খেলা?
বেরিয়ে এসো, হয়ে ওঠো তোমার সহধর্মিণীর কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পুরুষ।
একটু যত্নে যেথায় মেলে স্বর্গসুখ,
সেই হৃদয়ে খড়কুটো দিয়ে গড়ে তোলো যত্নের তাজমহল।

মনের মাঝে ছোট্ট নদী

মনের মাঝে ছোট্ট নদী,
তীরে কাশের বন
উষ্ণ হাওয়ার পেলবতা
মধুর গুঞ্জরণ।

সেই নদীতে ছোট্ট তরী,
হাওয়ায় দোলে সুখ
ডাক দিয়ে যায় দুহাত নেড়ে
চেনা কোনো মুখ।

গাঙ শালিকের ওড়াউড়ি
লুকোচুরি খেলা
শরত রানী নৃত্য করে
দিব্যি কাটে বেলা।

রাখাল বাজায় বাঁশের বাঁশি
হেলান দিয়ে মাঠ
বধূর রাঙা লাজে রাঙায়
শান্ত নদীর ঘাট।

নতুন বধূ পানকৌড়ি
ডুব সাঁতারে খেলে
খুশিতে তার সূর্য হাসে
ময়ূর পেখম মেলে।

আকাশ নীলে সেই লগণে
প্রিয়ার কালো চোখ
ভাসিয়ে দিলো আমার শত
ভুলে যাওয়া শোক।।