শেখ হাসিনার সময়ে ভারতের সাথে করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ /
শেখ হাসিনার সময়ে ভারতের সাথে করা ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার

শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা নতুন করে পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার।

এসব চুক্তির কোনগুলো বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল, কোনগুলোতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং কোনগুলো সংশোধন, বাতিল বা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পর্যালোচনা শেষে শিগগিরই সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা যেসব চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকারের নীতি হলো—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই অন্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশের জাহাজের সঙ্গে কোনো বন্ধুরাষ্ট্রের জাহাজ একসঙ্গে এলে ওই দেশের জাহাজ আগে খালাস পাওয়ার মতো শর্তও আগের সরকারের বিভিন্ন চুক্তিতে ছিল। দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন অসংখ্য চুক্তি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সরকার এখন সেসব চুক্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, ‘দেশের স্বার্থ রক্ষার পরেই বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে।’

ভারতের সঙ্গে চুক্তির সংখ্যা নিয়ে অতীতের সরকারি তথ্যেও বড় পরিসরের চুক্তি ও সমঝোতার কথা পাওয়া যায়। ২০১৭ সালে সংসদে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর ভারত, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে মোট ২৬৩টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল সই হয়েছে; এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে ছিল ১৩৪টি। ওই হিসাবের মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই ভারতের সঙ্গে ১০৬টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও প্রটোকল সই হয়েছিল।

চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। দেশের অর্থনীতি ও সক্ষমতা বাড়িয়ে বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করে প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।

হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের প্রসঙ্গ তুলে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ওই সরকারের সময়ের ২০৫ কোটি ডলারের ঋণ সরকার পরিশোধ করেছে। তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানেও সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং এলএনজি আমদানিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা সরকার ইতোমধ্যে জানিয়েছে।

সারের মজুত নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, দেশে ১৬ লাখ টন সার মজুদ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংসদেও সরকার জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৬ লাখ টন সার উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সার সরবরাহ ও বিতরণ নির্বিঘ্ন করতে দেশের ৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশের সম্পদ, বন্দর, জ্বালানি, বাণিজ্য ও কৌশলগত স্বার্থ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতিতেই সরকার এগোচ্ছে।