পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রম রফতানি করতে চায় সরকার’-প্রধানমন্ত্রী


Sarsa Barta প্রকাশের সময় : জুন ২১, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ /
পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রম রফতানি করতে চায় সরকার’-প্রধানমন্ত্রী

পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে শ্রম রফতানি করতে চায় সরকার : মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সাথে মতবিনিময় কালে প্রধানমন্ত্রী

‘মালয়েশিয়ার রাস্তাঘাট খুবই পরিষ্কার। এই পরিষ্কার আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরাও করছে। বিদেশে এত পরিষ্কার করতে পারলে দেশে কেন পারব না?’

বাংলাদেশ সরকার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি তার কিছু চিন্তাভাবনা শেয়ার করতে চান। সবশেষ ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে দেখতে এসেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার রাস্তাঘাট খুবই পরিষ্কার। এই পরিষ্কার আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরাও করছে। বিদেশে এত পরিষ্কার করতে পারলে দেশে কেন পারব না?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন নির্বাচিত হই তখন প্রথম দিকেই মালয়েশিয়া সরকারের প্রধান ড. আনোয়ার ইব্রাহিম ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি আমাকে তার দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সোমবার তার সাথে বৈঠক হবে।’

আলোচনা কী হবে এটা নিয়ে বেশ কৌতূহল আছে সবার। প্রথমেই এখানে বহু শ্রমিক কাজ করছে। শ্রমবাজার কিভাবে আবার খুলতে পারি তা মূল আলোচনায় থাকে। নানা কারণে দুই হাজারের মতো মানুষ মালয়েশিয়ায় আটকে আছে। তাদেরকে কিভাবে মুক্ত করা যায়, সেই পথ খোঁজা হবে,’ বলেন তিনি।

এর আগে রোববার মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে কুয়ালালামপুরে পৌঁছান। তার সাথে আছেন সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেয়া হয়। সুসজ্জিত বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনারের সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।

এর আগে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা ফুল দিয়ে জুবায়দা রহমানকে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে পৌঁছান রাত পৌনে ১০টার দিকে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ‘শাংগ্রি লা হোটেল’ পর্যন্ত ৫০ মিনিটের সড়কপথ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়ায় এটা তারেক রহমানের প্রথম সফর।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম প্রমুখ।
অন্যদের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক এই সফর।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ বাংলাদেশ। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। সেই মালয়েশিয়াকে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন আগামীকাল সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় তার কার্যালয়ে। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথমে একান্ত বৈঠক এবং এর পরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দুই প্রধানমন্ত্রী পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
এই সফরে মালয়েশিয়ার সাথে পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা নিয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।